• নওগাঁর ধামুহরহাট থানায় অবস্থানরত পাকবাহিনীর ওপর মুক্তিযোদ্ধারা অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এই অভিযানে একজন অফিসারসহ কয়েকজন পাক সৈন্য নিহত হয়। অপরদিকে একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও ২ জন আহত হন।
  • মুক্তিযোদ্ধারা গোপালগঞ্জ শহরে এক অভিযান চালায়। এতে পাকবাহিনীর দালালদের সাথে তুমুল গুলি বিনিময় হয়। এই অভিযানে পাকবাহিনীর তিনজন সহযোগী নিহত হয় এবং বিপুল অস্ত্রশস্ত্র মুক্তিবাহিনীর হস্তগত হয়।
  • লেফটেন্যান্ট মোরশেদের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা সিলেট-ঢাকা সড়কে তেলিয়াপাড়া চা বাগান এলাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেটগামী পাকবাহিনীর দুকোম্পানি সৈন্যকে এ্যামবুশ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের এই অভিযানে এক কোম্পানি পাকসেনা নিহত হয় ও তিনটি সামরিক যান ধ্বংস হয়। এই অভিযান থেকে মুক্তিযোদ্ধারা একটি গাড়ি ও প্রচুর গোলাবারুদসহ অস্ত্রশস্ত্র লাভ করে।
  • মুজিবনগরে বটগাছ ও খামারবাড়ি এলাকায় যুব ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। এ ক্যাম্পে যোদ্ধাদের গেরিলা ট্রেনিং দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ক্যাম্পের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হচ্ছেন : সোলায়মান হক, জোয়ার্দার সেলুন, আবুল বাশার, সিদ্দিক জামাল নান্টু, ওলিউল্লাহ সিদ্দিক, বুধো, মন্টু ও হাসান।
  • পাক বর্বররা সিলেটের গালিমপুরে ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। হানাদারদের এই নৃশংস হত্যাযজ্ঞে ৩১ জন নিরীহ গ্রামবাসী নিহত হয়।
  • জাতিসংঘের মহাসচিব উ থান্ট নিউ ইয়র্কে বলেন, পূর্ব পাকিস্তান থেকে দলে দলে শরণার্থী ভারতে উপস্থিত হওয়ায় জাতিসংঘ বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন। এখনও বিপুল সংখ্যক শরণার্থী ভারতে আসছেন। এঁদের মধ্যে বহু শিশু ও মহিলা রয়েছেন। তাঁদের দুঃখ-দুর্দশার অন্ত নেই। পূর্ব পাকিস্তান থেকে যে অসংখ্য লোক ভারতে চলে আসছেন, তাদের আশু সাহায্যের যে খুবই প্রয়োজন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমি একান্তভাবে আশা করি, এসব হতভাগ্য লোককে যথাশীঘ্র স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে নেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, এটা সুস্পষ্ট যে, যতদিন না তাদের ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে, ততদিন আপৎকালীন ভিত্তিতে ব্যাপক বৈদেশিক সাহায্যের প্রয়োজন হবে। এ জন্যে ভারত সরকার আমার ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার কাছে যত শীঘ্র সম্ভব শরণার্থীদের সাহায্য করার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। আমি জাতিসংঘের সমস্ত সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন সরকার, আন্তঃসরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আবেদন জানাচ্ছি, তারা যেন বর্তমান মর্মন্তুদ পরিস্থিতিতে মানবকল্যাণ কাজে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসেন।
  • প্রাদেশিক জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব আবদুল খালেক ও শ্রম সচিব মোহাম্মদ শফিউল্লাহ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তান-বিরোধী দুষ্কৃতকারী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ত্রাসের রাজত্ব শেষ হয়েছে। পাকিস্তানের বীর সেনাবাহিনী সময় মতো ব্যবস্থা নেয়ায় সহজেই পরিস্থিতি আয়ত্তে এসেছে। সেনাবাহিনী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করতে বদ্ধপরিকর। আমরা তাদের উৎখাত করতে সেনাবাহিনীকে সাহায্য করার জন্য পূর্ব পাকিস্তানের মুসলমানদের এগিয়ে আসার আবেদন জানাচ্ছি।
  • ঢাকায় সামরিক শাসন কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেন, রংপুর জেলার তিনজন জাতীয় পরিষদ সদস্য নূরুল হক, আজিজুর রহমান ও ডা. আবু সোলায়মান আওয়ামী লীগের সাথে সম্পর্কচ্ছেদের কথা ঘোষণা করেছেন।
  • শান্তি ও কল্যাণ পরিষদ নেতা মৌলভী পরিদ আহমদ করাচিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বেআইনি ঘোষিত আওয়ামী লীগের সদস্যদের প্রকাশ্য বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সহযোগীরা যা করছে, তা দেশদ্রোহিতার নামান্তর। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে সহায়তা করার জন্য ইন্দিরা গান্ধীর সমালোচনা করেন।