অক্টোবর ২, ১৯৭১
Posted by সময়ের প্রয়োজনে ... on Saturday, October 2, 2010
-
মুক্তিবাহিনী কুমিল্লা, যশোর ও সিলেট সীমান্তে
১৭টি এলাকায় পাকহানাদারদের বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ চালায়।
মুক্তিযোদ্ধাদের আচমকা মর্টার ও কামান হামলায় রণাঙ্গণগুলোতে কয়েক'শ
পাকসৈন্য হতাহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদের কাছ থেকে প্রচুর
অস্ত্রশস্ত্র দখল করে। মুক্তিবাহিনী কুমিল্লার কালিপুর, পরশুরাম,
খাজুরিয়া, শাহপুর, কাউয়ামতলা, নয়নপুর, বজ্জলা, হরিমঙ্গল, ছাগলপুর,
রাজপুর, শাদলানদী, মধুগ্রাম; সিলেটের রাধানগর, জয়ন্তিপুর, রাজঘাট ও
যশোরের বেনাপোলের হিজলতলী গ্রামে শত্রুবাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়।
-
মুক্তিবাহিনী
ময়মনসিংহের ফুলপুর-হালুয়াঘাট রাস্তায় মাইন পুঁতে এ্যামবুশ পাতে।
পাকবাহিনীর একটি ট্যাঙ্ক অগ্রসর হয়ে মাইনের উপর এলে মাইন বিস্ফোরণ হয়
এবং ট্যাঙ্কটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়।
-
মুক্তিবাহিনীর
এ্যামবুশ দল দিনাজপুরের ঠাকুরগাঁও-এ পাকসেনাদের জন্য মাইন পুঁতে ওৎ পেতে
থাকে। পাকহানাদারদের খাদ্যবাহী একটি ট্রাক ঠাকুরগাঁও-এর দিকে অগ্রসর হয়ে
মাইনের উপর এলে মাইন বিস্ফোরিত হয় এবং ট্রাকটি ধ্বংস হয়।
-
কুমিল্লার
হোমনায় মুক্তিবাহিনীর বীর যোদ্ধারা পাকসেনাদের বিরুদ্ধে এক দুঃসাহসিক
অভিযান চালায়। এই সংঘর্ষে পাকবাহিনীর ১১ জন পুলিশ ও ৫ জন রাজাকার নিহত
হয়। পরে ১৫ জন রাজাকার তাদের অস্ত্রশস্ত্রসহ মুক্তিবাহিনীর কাছে
আত্মসমর্পণ করে।
-
গভর্নর
ডাঃ এ.এম. মালিক খুলনায় সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সহযোগী
দালালদের সভায় বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, 'দুষ্কৃতকারীরা আমাদের
আত্মীয়স্বজন হলেও তারা বর্তমানে আমাদের শত্রু। কাজেই তাদের ক্ষমা করা
যাবে না।'
-
সফররত মার্কিন
প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির সদস্য পিটার ও ফ্রেলিং
হুইসেনকে পাকহানাদাররা তথাকথিত কুমিল্লার অভ্যর্থনা কেন্দ্র দেখাতে নিয়ে
যায়। হানাদাররা এলাকার ক্ষয়-ক্ষতি এবং গোলাচিহ্ন দেখিয়ে এগুলোকে
মুক্তিযোদ্ধাদের কাজ বলে প্রতিনিধিদের কাছে উল্লেখ করে।
-
পূর্ব
পাকিস্তানের খাদ্য ও কৃষিমন্ত্রী নওয়াজেশ আলী খান চুয়াডাঙ্গা সফর করেন।
চুয়াডাঙ্গায় তিনি দালালদের দেশ সেবায় এগিয়ে আসার আহবান জানান।
-
সিলেটের
সাগরনালে মুক্তিবাহিনী পাকহানাদারদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা
চালালে রাজাকারদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। এই সংঘর্ষে ৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা
শহীদ হন।