• আজ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রাহমান এর শাহাদাৎ বার্ষিকী। হামিদুর রহমান ১ম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সি কোম্পানির হয়ে ধলই সীমান্তের ফাঁড়ি দখল করার অভিযানে অংশ নেন। ভোর চারটায় মুক্তিবাহিনী লক্ষ্যস্থলের কাছে পৌছে অবস্থান নেয়। সামনে দু প্লাটুন ও পেছনে এক প্লাটুন সৈন্য অবস্থান নিয়ে অগ্রসর হতে থাকে শত্রু অভিমুখে। শত্রু অবস্থানের কাছাকাছি এলে একটি মাইন বিস্ফোরিত হয়। মুক্তিবাহিনী সীমান্ত ফাঁড়ির খুব কাছে পৌছে গেলেও ফাঁড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্ত হতে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর মেশিনগানের গুলিবর্ষণের জন্য আর অগ্রসর হতে পারছিলো না। অক্টোবরের ২৮ তারিখে ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও পাকিস্তান বাহিনীর ৩০এ ফ্রন্টিয়ার রেজিমেন্টের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ বাধে। ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ১২৫ জন মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধে অংশ নেয়। মুক্তিবাহিনী পাকিস্তান বাহিনীর মেশিনগান পোস্টে গ্রেনেড হামলার সিদ্ধান্ত নেয়। গ্রেনেড ছোড়ার দায়িত্ব দেয়া হয় হামিদুর রহমানকে। তিনি পাহাড়ি খালের মধ্য দিয়ে বুকে হেঁটে গ্রেনেড নিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। দুটি গ্রেনেড সফল ভাবে মেশিনগান পোস্টে আঘাত হানে, কিন্তু তার পরপরই হামিদুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। সে অবস্থাতেই তিনি মেশিনগান পোস্টে গিয়ে সেখানকার দুই জন পাকিস্তানী সৈন্যের সাথে হাতাহাতি যুদ্ধ শুরু করেন। এভাবে আক্রণের মাধ্যমে হামিদুর রহমান এক সময় মেশিনগান পোস্টকে অকার্যকর করে দিতে সক্ষম হন। এই সুযোগে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল উদ্যমে এগিয়ে যান, এবং শত্রু পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে সীমানা ফাঁড়িটি দখল করতে সমর্থ হন। কিন্তু হামিদুর রহমান বিজয়ের স্বাদ আস্বাদন করতে পারেননি, ফাঁড়ি দখলের পরে মুক্তিযোদ্ধারা শহীদ হামিদুর রহমানের লাশ উদ্ধার করে।

  • ২নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর ১০ম বেঙ্গলরে তিনটি কোম্পানী গোলন্দাজ বাহিনীর সহায়তায় নিলক্ষী ঘঁটিতে অবস্থানরত পাকসেনাদের ওপর তীব্র আক্রমণ চালায়। তিন ঘন্টা যুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রচন্ড চাপে টিকতে না পেরে পাকসেনারা নিলক্ষী ঘাঁটি পরিত্যাগ করে পিছু হটে। মুক্তিযোদ্ধারা নিলক্ষী ঘাঁটি পুনর্দখলের পর প্রতিরক্ষাব্যূহ মালিবিল ও গাবতলী পর্যন্ত সম্প্রসারিত করে।

  • ১নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর একটি এ্যামবুশ দল গুতুমার কাছে পাকসেনাদের একটি বাঙ্কারে এল.এম.জি-র সাহায্যে আক্রমণ চালায়। এতে বাঙ্কারে টহলরত ১জন পাকসেনা নিহত হয়। আক্রমণ শেষে মুক্তিযোদ্ধারা নিরাপদে নিজেদের অবস্থানে ফিরে আসে।


  • সিলেটে 'জেড' ফোর্সের 'বি' কোম্পানী আর্টিলারীর সাহায্যে পাকবাহিনীর পাত্রখোলা চা ফ্যাক্টরী ঘাঁটি আক্রমণ করে। এতে পাকসেনা সম্পূর্ণরূপে পর্যুদস্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা পাত্রখোলা চা ফ্যাক্টরী পাকসেনা ঘাঁটি দখল করে।

  • ৮নং সেক্টরের বয়রা সাব-সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর একটি এ্যামবুশ দল পাকসেনাদের একটি দলকে গরিবপুর থেকে আসার পথে ফতেহপুরে এ্যামবুশ করে। এই এ্যামবুশে পাকবাহিনীর ৩ জন সৈন্য নিহত হয়।

  • পূর্ব পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন প্রদেশের আসন্ন উপনির্বাচনে জাতীয় পরিষদে ৫০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বলে ঘোষণা করে। নির্বাচিতদের মধ্যে প্রাদেশিক জামায়াতে ইসলামীর প্রধান গোলাম আজম, প্রাদেশিক কাউন্সিল মুসলিম লীগ প্রধান খাজা খয়রুদ্দিন, কাইয়ুম মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক খান এ. সবুর, জামায়াতের প্রাদেশিক সহকারী আমীর আব্বাস আলী খান ও এ.কে.এম. ইউসুফ রয়েছেন।

  • ঢাকায় একজন সামরিক মুখপাত্র জানান, প্রদেশের সর্বত্র রাজাকাররা প্রায় প্রতিদিন ভারতীয় চরদের (মুক্তিযোদ্ধা) মোকাবেলা করছে। তারা দুষ্কৃতকারীদের (মুক্তিযোদ্ধা) আক্রমণ নস্যাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও রেলসেতু রক্ষা করছে। রাজাকারদের সাফল্যে দেশবাসী গর্বিত।

  • জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদানকারী সদস্য এ.টি. সাদী হিউস্টনে পাকিস্তানী ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'সরকার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যে উপনির্বাচনের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু ভারত সীমান্ত এলাকায় গুলিবর্ষণ এবং চরদের লেলিয়ে দিয়ে উপনির্বাচন বাতিলের ষড়যন্ত্র করছে।'

  • সিলেটের ১নং সংক্ষিপ্ত সামরিক আইন প্রশাসক বারবখ থানার নাদুস গ্রামের আবদুল কাইয়ুম, কুলাউড়া থানার মহাতেবপুরের জিতেন্দ্র মালাকার, সুজাতপুরের এনায়েত উল্লা, জকিগঞ্জ থানার কাছিরকে গ্রামের মাকুর আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তাদেরকে সামরিক আদালতে হাজির হবার নির্দেশ দেয়।