• কুমিল্লায় মুক্তিবাহিনীর ৯ম বেঙ্গল রেজিমেন্টের যোদ্ধারা কসবা পাকসেনা ঘাঁটির ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। প্রায় ১০ মিনিট তীব্র কামানের গোলা বর্ষণের পর উত্তর দিক থেকে দু'টি কোম্পানী লেঃ আজিজ এবং সুবেদার মেজর শামসুল হকের নেতৃত্বে পাকসেনাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এই অতর্কিত আক্রমণে পাকসেনারা দিশেহারা হয়ে পড়ে। তিন ঘন্টা স্থায়ী এই যুদ্ধে ২৬ জন পাকসেনা নিহত ও ১৮ জন আহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদের কাছে ১১টি এল.এম.জি, ১টি পিস্তল, ৪০টি এইচ-৩৬ গ্রেনেড, ৩টি ৯৪ এনার্গা, ৪৪ টি প্লাস্টিক মাইন ও ১টি ম্যাপ দখল করেন।

  • ঢাকার তেজগাঁওয়ের নিম্ন এলাকায় মুক্তিবাহিনী পাকসেনাদের একটি নৌকা এ্যামবুশ করে। এই এ্যামবুশে নৌকাটি সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয় এবং পাকবাহিনীর ৫ জন সৈন্য নিহত ও ৬ জন আহত হয়।

  • ২নং সেক্টরে ইমামুজ্জামানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা দল হরিসরদার বাজারে অবস্থানরত পাকসেনাদের ওপর আক্রমণ চালায়। প্রায় ১২ ঘন্টার এই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর মর্টার, মেশিনগান এবং আর.আর-এর রকেট পাকসেনাদের প্রচুর ক্ষতি সাধন করে। এ যুদ্ধে পাকবাহিনীর ৩৫ জন সৈন্য হতাহত হয়।

  • ৮ নং সেক্টরে পাকসেনা ও রাজাকারদের সম্মিলিত একটি দল মুক্তিবাহিনীর নাইকালি অবস্থানের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মুক্তিবাহিনী পাল্টা আক্রমণ চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে ৩ জন পাক সৈন্য নিহত এবং ১৫ জন রাজাকার আহত হয়।

  • পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টু বলেন, জনগণ চায় পিপলস পার্টির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে হোক।
    তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বেআইনী ঘোষিত হবার পর তাঁর দল এখন কেবল পাকিস্তানের বৃহত্তম দল নয়, জাতীয় পরিষদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠ দল।


  • পূর্ব পাকিস্তানের শ্রম, সমাজকল্যাণ ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী এ.এস.এম. সোলায়মান নারায়ণগঞ্জের বৈদ্যের বাজারে বলেন, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ হচ্ছে গৌরবের ব্যাপার।
    তিনি সবাইকে এ গৌরবের ভাগিদার হওয়ার আহবান জানান।


  • পূর্ব পাকিস্তানের কৃষিমন্ত্রী নওয়াজেশ আহমেদ মাগুরায় এক সমাবেশে বলেন, পাকিস্তানের আদর্শ সম্পর্কে অজ্ঞতাই হচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতির জন্যে দায়ী। আজকের তরুণ সমাজের মধ্যে মুসলমানদের স্বতন্ত্র আবাস ভূমির দাবী কেন হয়েছিল সে ব্যাপারে প্রকৃত উপলব্ধি নেই। তরুণ সমাজের মধ্যে এ বোধ জাগ্রত করতে হবে।

  • পূর্ব পাকিস্তানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওবায়দুল্লা মজুমদার রাঙ্গুনিয়ায় এক সভায় বলেন, আওয়ামী লীগের এক শ্রেণীর নেতা পাকিস্তানের সহজ সরল জনগণের সঙ্গে বেইমানী করেছে। 'বাংলাদেশ' শ্লোগান তুলে তারা পাকিস্তানের আদর্শের মূলে আঘাত করেছে।