অক্টোবর ১৯, ১৯৭১
Posted by সময়ের প্রয়োজনে ... on Monday, October 18, 2010
-
হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৫০ জন যোদ্ধার একটি দল
সুনামগঞ্জ মহকুমার নিকলি থানায় পাকবাহিনীর অবস্থানের ওপর অতর্কিত আক্রমণ
চালায়। মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র আক্রমণের মুখে পাকসেনারা নিকলি ছেড়ে
সুনামগঞ্জ পালিয়ে যায়। এই যুদ্ধে একজন মুক্তিযোদ্ধা আহত হন।
মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদের কাছ থেকে ২৫টি ৩০৩ রাইফেল ও প্রচুর গোলাবারুদ
দখল করে।
-
২নং সেক্টরে
মুক্তিবাহিনী কামালপুরে অবস্থানরত পাকসেনাদের বিরুদ্ধে দুঃসাহসিক অভিযান
চালায়। এই অভিযানে পাকবাহিনীর ৪ জন সৈন্য নিহত হয়।
-
সিলেটে
ক্যাপ্টেন হাফিজউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে 'জেড' ফোর্সের 'বি' কোম্পানী
পাকসেনাদের চম্পারান চা ফ্যাক্টরী ঘাঁটি আক্রমণ করে। এই অভিযানে
পাকসেনাদের চম্পারান চা ফ্যাক্টরী ঘাঁটি ধ্বংস হয়।
-
সকাল ১১ টায় ঢাকার মতিঝিলস্থ ইপিআইডিসি ভবনের সামনে টাইম বোমা বিস্ফোরণে ৭ জন নিহত, ১২ জন আহত ও ৯টি গাড়ী বিধ্বস্ত হয়।
-
ভারতের
প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নয়াদিল্লীতে বলেন, ভারত ও পাকিস্তানের
সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভারত যুদ্ধ এড়িয়ে যাবার
জন্য সম্ভাব্য সবকিছুই করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, মূল সমস্যা বিদ্যমান
ইসলামাবাদের সামরিক শাসকবর্গ ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে-যার পরিণতি ভোগ
করছে ভারত।
-
রাওয়ালপিন্ডিতে
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বলেন, আমরা ভারতের সাথে যুদ্ধ চাই না। তবে ভারত
যদি বাঙালি গেরিলাদের পাকিস্তানের অভ্যন্তরে অনুপ্রবেশ ঘটানোর কাজ অব্যাহত
রাখে এবং আক্রমণ করে তাহলে আমরা তার প্রতিশোধ নেব। আভ্যন্তরীণ ব্যাপারে
ভারতের হস্তক্ষেপ আমরা আর সহ্য করতে রাজি নই।
-
লেঃ
জেনারেল নিয়াজী পাবনায় রাজাকার ট্রেনিং সেন্টারে প্রশিক্ষণরত রাজাকারদের
পরিদর্শন করেন। তিনি রাজাকারদের উদ্দেশ্যে বলেন, 'মানুষের মৃত্যু
অনিবার্য। কিন্তু রাজাকাররা যদি শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে
মৃত্যুবরণ করে, তবে তারা নিঃসন্দেহে আল্লাহর রহমত পাবে।'
-
সরকারী
ঘোষণায় জানা যায়, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল এ. রহিম
ভারতীয় বিমান বাহিনী প্রধানের কাছে ভারতীয় বিমান হামলার অভিযোগ এনে
প্রতিবাদ করেছেন, তিনি হুমকি দেন এরপর আমরাও পাল্টা আক্রমণ করবো।
-
জামায়াতে
ইসলামীর আমীর মওলানা মওদুদী এক বিবৃতিতে পূর্ব পাকিস্তানে দুস্কৃতকারীদের
(মুক্তিযোদ্ধা) হাতে ক্ষতিগ্রস্তদের সাহায্য করার জন্যে বিত্তশালীদের
প্রতি আহবান জানান।