অক্টোবর ১৮,১৯৭১
Posted by সময়ের প্রয়োজনে ... on Monday, October 18, 2010
-
২নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর একটি শক্তিশালী দল মর্টার ও
আর-আর-এর সহায়তায় পাকসেনাদের বাডিসাঘাট অবস্থানের ওপর আক্রমণ চালায়।
প্রায় দেড় ঘন্টার এই যুদ্ধে ২০ জন পাকসেনা হতাহত হয়। বাডিসাঘাট আক্রমণের
সঙ্গে সঙ্গে পাকসেনাদের রাজাসার দীঘির অবস্থানের ওপরও মুক্তিযোদ্ধারা
আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে ৬ জন পাকসেনা নিহত ও কয়েকটি বাঙ্কার ধ্বংস হয়।
-
কুমিল্লায় সুবেদার আবদুল ওয়াহাবের নেতৃত্বে প্লাটুন
মুক্তিযোদ্ধা মন্দভাগ বাজারের পশ্চিম দিকে দিউশ নামক স্থানে এক কোম্পানী
পাকসৈন্যকে আক্রমণ করে। এই যুদ্ধে পাকবাহিনীর একজন মেজর, একজন লেঃ সহ ১০০
জন সৈন্য নিহত ও কয়েকজন আহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদের কাছ থেকে ৬টি
এম-জি-আই-এ-৩, ৭টি এল-এম-জি, ৭০টি জি-৩ রাইফেল, ৩টি ৮৩ এম-এম-বি-সি, ১টি
অয়ারলেস সেট, ৩টি ২" মর্টার ও কয়েকটি ট্রানজিস্টার দখল করে।
-
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী নয়াদিল্লীতে এক
অনুষ্ঠানে সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র বাহিনীর হামলা সম্পর্কিত পাকিস্তানের
অভিযোগ খন্ডন করে বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী নয়, বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর
মুক্তিযোদ্ধারা সীমান্ত এলাকায় তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর
সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে। মুক্তিবাহিনীতে দেড় লক্ষ মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে
এবং এঁদের প্রায় ৫০ হাজার পুলিশ, বিডিআর ও সেনাবাহিনী সদস্য। তারা সবাই
বাঙালি এবং ২৫ মার্চ রাতে এদের ওপর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর প্রথম আক্রমণ
করার পর এরা প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দেয়। তাঁরা মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য
লড়াই করছে।
-
হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল রেডক্রসের হাতে হস্তান্তর করা
হয়। হাসপাতাল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে গভর্নর ডাঃ এ. এম. মালিক সেবার আদর্শে
অনুপ্রাণিত হয়ে পাকিস্তানের খেদমতে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
-
পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভূট্টো ঘোষণা
করেন, তার দল জোট গঠনের জন্য যে কোনো দলের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত
রয়েছে।
-
৫নং সেক্টরে লেঃ তাহেরউদ্দিন আখঞ্জির নেতৃত্বে দুই
কোম্পানী মুক্তিযোদ্ধা ২৫টি নৌকায় করে ভোলাগঞ্জ সাব-সেক্টর থেকে গৌরীনগর
গ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। মুক্তিযোদ্ধারা গৌরীনগরের কাজাকাছি এলে
পাকসেনারা গৌরীনগর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর প্রচন্ড গুলি চালায়।
পাকসেনাদের অকস্মাৎ আক্রমণে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও ৬ জন গুরুতররূপে
আহত হন।
-
পূর্ব পাকিস্তানের সাহায্য ও পুনর্বাসন মন্ত্রী অধ্যাপক
শামসুল হক চট্টগ্রামে দালালদের এক সভায় বলেন, 'বিদ্রোহ কোনোদিন সফল হয়নি।
ভারতীয় প্রচারযন্ত্রের মিঠা বুলিতে আকৃষ্ট হয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা ভারতে
গিয়ে বিদ্রোহ ছড়াচ্ছে। তারপরেও প্রেসিডেন্ট সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে
সবাইকে ফিরে আসার আহবান জানিয়েছেন।' বিদ্রোহীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি
বলেন, "কোনো মতেই কিছু সংখ্যক বিদ্রোহীর কারণে পাকিস্তানের ১৩ কোটি মানুষ
দুর্ভোগ পোহাতে পারে না।"
- পূর্ব পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী আবুল কাসেম বেতার ভাষণে বলেন, 'যখন দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন, জনজীবন বিপর্যস্ত, প্রতিটি মানুষ যখন দিশেহারা, তখন নবগঠিত মন্ত্রীসভার একজন সদস্য হিসাবে যোগ দিয়ে জাতির প্রতি কর্তব্য পালনে এগিয়ে এসেছি। বিভ্রান্ত হয়ে যারা এদেশ ছেড়ে শত্রুদেশে আশ্রয় নিয়েছেন, নিজেদের হাতে গড়া পাক ভূমিতে নির্ভয়ে ফিরে পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য তাদের প্রতি আহবান জানাই।'