অক্টোবর ১৭, ১৯৭১
Posted by সময়ের প্রয়োজনে ... on Sunday, October 17, 2010
-
নয়াদিল্লীতে ভারতের ইন্দিরা গান্ধী ও যুগোশ্লাভ
প্রেসিডেন্ট জোশেফ টিটো এক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে উভয় নেতা বাংলাদেশ
প্রসঙ্গ নিয়ে মত বিনিময় করেন।
-
মুক্তিবাহিনীর একটি এ্যামবুশ দল কুমিল্লার রমজানপুরে
পাকসেনাদের একটি টহলদার দলকে এ্যামবুশ করে। পাকসেনারা পাল্টা আক্রমণ চালালে
উভয় পক্ষের মধ্যে আধঘন্টা গুলিবিনিময় হয়। এই সংঘর্ষে পাকবাহিনীর ১০ জন
সৈন্য ও ১৮ জন রাজাকার নিহত হয়। অপরদিকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা আহত হন।
-
মুক্তিবাহিনীর বীর যোদ্ধারা সিলেট, কুমিল্লা, যশোর,
ময়মনসিংহ ও রংপুর জেলার সীমান্ত অতিক্রম করে ২৩টি গ্রামে রাজাকারদের
অবস্থানের ওপর আক্রমণ চালায়। এতে মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল পরিমাণ
অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ দখল করে এবং কয়েকশ' রাজাকারকে বন্দি করে।
-
৮নং সেক্টরের বয়রা সাব-সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর একদল
মুক্তিযোদ্ধা দশাতিনায় পাকসেনাদের এ্যামবুশের আওতায় পড়ে। এতে উভয়
পক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলি বিনিময় হয়। এই সংঘর্ষে পাকবাহিনীর ৩ জন নিহত ও ২
জন রাজাকার আহত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা অক্ষত অবস্থায় নিরাপদে নিজেদের
ঘাঁটিতে ফিরে আসে।
-
১নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর একদল যোদ্ধা পাকসেনাদের
পূর্বদেবপুরে এ্যামবুশ করে। পাকসেনারা পাল্টা গুলি চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে
ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা গুরুতরভাবে আহত হয়।
-
গভর্নর ডাঃ এ. এম. মালিক ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস ময়দানে
দালালদের সভায় মুক্তিকামীদের নিধনে রাজাকারদের কার্যকরী ভূমিকার ভূয়সী
প্রসংশা করেন।
-
তিনি বলেন, "বিশ্বাসঘাতকরা পেছন থেকে ছুরি না মারা
পর্যন্ত মুসলমানরা কখনো যুদ্ধে হারেনি, স্বাধীন বাংলার প্রবক্তাদের পরিনাম
মীরজাফর, উমিচাঁদ, জগৎশেঠদের অবস্থায় দাঁড়াবে।"
-
কুমিল্লার কথিত ভাষাবিদ এম. জামান তার পাকিস্তান প্রেমের
নিদর্শন হিসেবে বাংলা ও উর্দু হরফের মিশ্র এক ফর্মূলা কর্তৃপক্ষের কাছে
পেশ করেন। তিনি জানান, এতে করে দুই দেশের সমঝোতা বাড়বে।
- পূর্ব পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী আবুল কাসেম চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট হলে মুক্তিকামীদের নিধনে রাজাকারদের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "ট্রেনিংপ্রাপ্ত ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রে সজ্জিত রাজাকারদের সংখ্যা বর্তমানে ৫৫ হাজার। রাজাকারদের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে শিগগিরই এ সংখ্যা ১ লাখে বাড়ানো হবে।"