অক্টোবর ১৬, ১৯৭১
Posted by সময়ের প্রয়োজনে ... on Saturday, October 16, 2010
-
সকালে তেহরানে পাকিস্তান প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া ও
সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট নিকোলাই পদগর্নির মধ্যে দু'ঘন্টা স্থায়ী আলোচনা হয়।
প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া নিকোলাই পদগর্নির কাছে পাকিস্তানের অখন্ডতা ও সংহতি
রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবার দাবি জানান।
-
নির্বাচন কমিশন এক প্রেসনোটে উপ-নির্বাচনের প্রতীক ঘাষণা
করে। ঘোষণায় আরো বলা হয়, গত নির্বাচনে যে দল যে প্রতীক নিয়ে
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলো, এবারেও সেই প্রতীকই বরাদ্দ থাকবে।
-
আলমের নেতৃত্বে নৌ-কমান্ডোরা চালনা বন্দরে দুঃসাহসিক
অভিযান চালায়। এই অভিযানে ফ্রগম্যানরা চারটি জাহাজ ধ্বংস করে। জাহাজ চারটি
মধ্যে 'লাইটনিং' ও 'আল-মুরতাজ'-রনাম উল্লেখযোগ্য। এই অপেরেশনে ফ্রগম্যান
আনোয়ার অসীম সাহসিকতা প্রদর্শন করেন।
-
দিনাজপুরে মুক্তিবাহিনী মর্টারের সাহায্যে বোয়ালগঞ্জে
অবস্থানরত পাকসেনাদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালায়। এই আক্রমণে পাকবাহিনীর ১৭
জন সৈন্য নিহত হয়। রাতে আরেক সংঘর্ষে পাকবাহিনীর ১০ জন সৈন্য নিহত হয়।
-
মুক্তিবাহিনীর জঙ্গী দল লালমনিরহাট ও ঠাকুরগাঁওয়ে
পাকবাহিনীর অবস্থানের ওপর তীব্র গোলাবর্ষণ করে। সফল অভিযান শেষে
মুক্তিযোদ্ধাদল নিরাপতে নিজেদের ঘাঁটিতে ফিরে আসে।
-
ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তির তস্কররা বিচারপতি আবু সাইদ চৌধুরীর ময়মনসিংহ রোডস্থ তালাবদ্ধ বাসভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়।
-
পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর গোলাম আজম
ঢাকায় এক জনসভায় বলেন, ভারত পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন করে দিয়ে যাবে
এমন আত্মঘাতী ভাববিলাস আমাদের বর্জন করতে হবে।
-
সন্ধ্যায় তেহরানে যুগোশ্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো ও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান একান্ত বৈঠকে মিলিত হন।
-
জাতিসংঘের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারী পলমার্ক হেনরী
সংবাদ সম্মেলনে জানান, গেরিলারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কিছু করতে না পারলেও
ত্রাণ সামগ্রী বন্টনে বাধার সৃষ্টি করছে।
-
নূরুল আমিনের জরুরি তলবে ঢাকায় ফিরে আসা মাহমুদ আলী
এপিপি-র সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানান, 'পাকিস্তান আন্তরিকভাবেই পাকিস্তানী
নাগরিকদের ফিরিয়ে আনতে আগ্রহী এবং সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু
ভারত বিভিন্ন অজুহাতে টালবাহানা করছে।'