নভেম্বর ২, ১৯৭১
Posted by সময়ের প্রয়োজনে ... on Tuesday, November 2, 2010
-
মুক্তিবাহিনী কুমিল্লা জেলায় পাকসেনাদের কায়েমপুর
ঘাঁটির ওপর মর্টারের সাহায্যে আক্রমণ চালায়। এতে পাকবাহিনীর ২ জন সৈন্য
নিহত ও ৪ জন আহত হয়।
-
মুক্তিবাহিনী ময়মনসিংহ জেলার শ্রীবর্দি থানায় পাকবাহিনীর ভয়াডাঙ্গা ঘাঁটি আক্রমণ করে। এতে পাকবাহিনীর ১০ জন সৈন্য নিহত হয়।
-
মুক্তিবাহিনী সিলেটের আলীনগর নামক স্থানে পাকসেনা ও
রাজাকারদের একটি সম্মিলিত দলের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘর্ষে ৩ জন
পাকসৈন্য নিহত ও ৫ জন আহত হয়।
-
২ নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনী এক প্লাটুন পাকসেনাকে পানছড়া
নামক স্থানে এ্যামবুশ করে। এই এ্যামবুশে পাকবাহিনীর ৩ জন সৈন্য নিহত ও ৪
জন আহত হয়।
-
২নং সেক্টরে মুক্তিবাহিনীর ৩টি কোম্পানী পাকসেনাদের
পরশুরাম ও ফুলগাজী ঘাঁটির ১২শ' গজের মধ্যে বাঙ্কার খুঁড়ে অবস্থান নেয়।
হানাদার বাহিনীর একটি টহলদার দল ফেনী-বেলোনিয়া রেললাইন দিয়ে
মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের ১০০ গজের মধ্যে এলে মুক্তিযোদ্ধারা পাকসেনাদের ওপর
তীব্র আক্রমণ চালায়। এতে পাকবাহিনীর টহলদার দলের একজন লেফটেনেন্টসহ ১০ জন
সৈন্যের সবাই নিহত হয়।
-
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক
তিনজন সাবেক কেন্দ্রীয় সচিবসহ ৩২ জন উচ্চপদস্থ বাঙালি সরকারী অফিসারের
খেতাব প্রত্যাহার করেন।
-
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী লন্ডনে ভারতীয়দের
এক সমাবেশে বলেন, তিনি বৃটেনকে তার প্রভাব বিস্তার করে বাংলাদেশ প্রশ্নের
একটি রাজনৈতিক মিমাংসা ও উদ্বাস্তু সমস্যার একটি সুষ্ঠু জন্য পাকিস্তানের
ওপর চাপ সৃষ্টির অনুরোধ জানিয়েছেন। যুদ্ধ বাধুক ভারত তা কখনো চায় না।
কিন্তু এ জন্য ভারত তার জাতীয় স্বার্থকে কখনো ক্ষুন্ন হতে দিতে পারে না।
তিনি বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সংকটের দ্রুত একটি নিষ্পত্তি করতে হবে। সীমান্ত পরিস্থিতি দেখে মনে হতে পারে বাংলাদেশ থেকে দলে দলে লোক চলে আসার ফলে এটা হয়েছে কিন্তু বাংলাদেশ সমস্যা এর চেয়েও জটিল। -
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান 'নিউইয়র্ক
টাইমস' এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, জাতি চাইলে বেআইনী আওয়ামী লীগ প্রধান
শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির প্রশ্নটি তিনি বিবেচনা করে দেখতে পারেন।
তিনি বলেন, বর্তমানের বিস্ফোরণোন্মুখ পরিস্থিতিকে তিনি আর বিস্তৃত করতে চান না, তবে ভারত যদি পাকিস্তানের এলাকা দখলে দুস্কৃতকারীদের (মুক্তিযোদ্ধা) অস্ত্রশস্ত্র ও মদদ দান অব্যাহত রাখে এবং ক্রীড়নক বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায় তবে যুদ্ধ বাধবে। -
নুরুল আমিন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার সাথে সাক্ষাতের
উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। সন্ধ্যায় তিনি বিমান বন্দরে সাংবাদিকদের
জানান, খসড়া শাসনতন্ত্রে পিডিপি-র দফা মেনিফেস্টো অন্তর্ভূক্ত করার দাবী
তিনি প্রেসিডেন্টের কাছে জানাবেন।